Advertisement
“শিক্ষার পণ্যায়ন নয়, পুঁজির দাসত্ব নয়চাই আপসহীন শ্রেণিসংগ্রাম!”
পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনে বিপর্যস্ত গোটা বিশ্ব। বাংলাদেশেও গত পঞ্চান্ন বছরের বুর্জোয়া ব্যবস্থা জনগণকে চরম দারিদ্র্য, অনাহার, বেকারত্ব ও বিভাজন উপহার দিয়েছে। বারবার শাসক বদল হলেও ব্যবস্থার বদল হয়নি। দেশের শিল্প-কৃষি ও অর্থনীতিকে ধ্বংস করে সাম্রাজ্যবাদী প্রভুদের স্বার্থ রক্ষা করা হয়েছে। যার ফলাফল ভোগ করছে দেশের জনগণ। বাজারে জিনিসপত্রের চড়া দাম, গ্যাস-বিদ্যুতের ভয়াবহ সংকট, জনগণের নিরাপত্তা সংকট- এমনকি সার না পেয়ে সারের গুদামে কৃষকের হানা দেওয়ার দৃশ্য আমাদের সামনে এক নীরব দুর্ভিক্ষের বার্তা দিচ্ছে।
রমরমা শিক্ষা ব্যবসার ফলে দেশের বিপুল অংশের জনগণ শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত। স্কুল পর্যায়ে ঝরে পড়ার মোট হার ৪৯.১%। জাতীয় উৎপাদনের বিকাশের সঙ্গে সম্পর্কহীন গোটা শিক্ষাব্যবস্থাই কার্যত আইএমএফ, বিশ্বব্যাংকসহ নানা সাম্রাজ্যবাদী সংস্থার প্রেসক্রিপশনে পরিচালিত হচ্ছে। যার ফলে শিক্ষার সংকোচন, বেসরকারিকরণ ও সাম্প্রদায়িকীকরণের মাত্রা বাড়ছে।
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় নতুন জ্ঞান সৃষ্টির বদলে চলছে শিক্ষার সংকোচন। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে আছে উচ্চ ব্যয়ের ভয়াবহ চাপ, নেই মাননিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহিতা! শিক্ষার গুণগত মান ধ্বংস করে, শিক্ষাব্যবস্থার প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে বিদেশি পুঁজির জন্য সস্তা শ্রমিক তৈরি করা। সঠিক গবেষণা ও পরিকল্পনা ছাড়াই শিক্ষাক্ষেত্রে নানা চটকদার সিদ্ধান্ত গোটা প্রজন্মের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
শিক্ষাসহ জাতীয় জীবনে ভয়াবহ সংকটের মধ্যে প্রতিবাদের ভাষা দমন করতে শাসকশ্রেণির নানা অংশ একদিকে শিক্ষার্থীদের বিরাজনীতিকরণের পথে ঠেলে দিচ্ছে, অন্যদিকে সন্ত্রাস ও দখলদারিত্বের ভিত শক্তিশালী করছে।
প্রায় সোয়া এক কোটি বেকারের দেশে প্রতিদিনই বাড়ছে বেকারের সংখ্যা। সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থ সংরক্ষণ করতে গিয়ে কর্মসংস্থানের সংকট বাড়ানো হয়েছে। মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির নামে দেশের ঔষধ, পোল্ট্রি, ডেইরিসহ বিভিন্ন শিল্পখাতে নতুন সংকট তৈরি করা হচ্ছে। একইভাবে চীন, জাপান, সিঙ্গাপুরের সঙ্গে চুক্তিতে জাতীয় শিল্প বিকাশের স্বার্থ সংরক্ষণ করা হচ্ছে না।
বেকারত্বের মৃত্যুকূপ থেকে এদেশের মানুষের বেঁচে থাকার সবচেয়ে বড় অবলম্বন হলো স্বনির্ভর অর্থনীতির বিকাশ। আজ বাংলাদেশে শিক্ষা শেষে সার্টিফিকেট পাওয়াটাই জীবিকার নিশ্চয়তা নয়। এখন প্রয়োজন সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনমুক্ত স্বনির্ভর অর্থনীতির জন্য সম্মিলিত লড়াই।
বর্তমান বাংলাদেশে তরুণ-যুবকদের লড়াইটা স্পষ্ট। বিগত পাঁচ দশকে এই রাষ্ট্র আমাদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের দায়িত্ব নেয়নি। বরং তারুণ্যের শক্তিকে বিভাজিত ও বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে। অনুগত শিক্ষা ব্যবস্থা, পরিচয়বাদী বিভাজন ও লোকরঞ্জনবাদী কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত রেখেছে। এই পরিস্থিতিতে সচেতন রাজনৈতিক সংগ্রাম ছাড়া আমাদের শিক্ষা, কর্ম ও নিরাপদে বাঁচার অধিকার আদায় করা সম্ভব নয়। এর জন্য চাই ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন। জনগণের বিপ্লবাত্মক সংগ্রামই তার মুক্তির একমাত্র পথ।
সেই আহ্বান নিয়ে গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল আগামী ২৯ অক্টোবর ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে কেন্দ্রীয় সম্মেলনের আয়োজন করেছে। ছাত্র-জনতার সচেতন রাজনৈতিক শক্তি নির্মাণের এই বাস্তব, গতিময় যাত্রায় আপনার সর্বাত্মক অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করি।
Advertisement
Event venue
অপরাজেয় বাংলা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, Dhaka, Bangladesh
Tickets