Advertisement
বটতলা প্রযোজনা-১৭ সখী রঙ্গমালা
উপন্যাস: শাহীন আখতার
নাট্যরূপ: সামিনা লুৎফা নিত্রা ও সৌম্য সরকার
নির্দেশনা: মোহাম্মদ আলী হায়দার
নাটকের কথা
প্রশ্ন ‘রাজনীতি’ নিয়ে—চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেওয়া রাজনীতি না, ‘সখী রঙ্গমালা’ নাটকের রাজনীতি সূক্ষ্ম! এতে লিঙ্গ রাজনীতি আছে, তবে একটু ভিন্ন আঙ্গিকে—যেখানে মুক্তি আছে; সর্বপ্রাণবাদী দর্শনের চর্চা আছে। জমিদারির হিস্যা নিয়ে ঠানঠুন মারামারি-কাইজ্জাও আছে, তবে তার বাইরেও যে ভালোবাসাটা আছে, সেটা দেখানো জরুরি এই ভালোবাসা-মন্দার পৃথিবীতে। এজন্যই ‘সখী রঙ্গমালা’ নাটক দরকারি। প্রেম—মানুষে-মানুষে, মানুষে-প্রকৃতিতে যুক্ত হওয়া। সমাজের হিসেবে যে শত্রু, সে যখন একটা আত্মিক ও পারলৌকিক চিন্তার মাধ্যমে বন্ধু হয়ে যেতে পারে, তখন সেই সম্পর্কটি নিবিড় ও নিরবচ্ছিন্ন হয়ে ওঠে—সেটা ঘটে রঙ্গমালা এবং ফুলেশ্বরী রাই চরিত্রের মধ্য দিয়ে। যে রঙ্গমালাকে ফুলেশ্বরী একবার দেখলও না ভালো করে (একবার দূর থেকে দেখেছে মাত্র), যার সাথে স্বামীর প্রেম—সেই মানুষটিই সে হয়ে উঠতে চায় দৈহিক ও আত্মিকভাবে। প্রথমে আপাত ঈর্ষা, এরপর গভীর এক বেদনাবোধ তাকে রঙ্গীর আরো কাছে পৌঁছে দেয় যেন। যে প্রেম রঙ্গমালার মৃত্যুর কারণ হয়, সেই প্রেম এক প্রতীকী রূপ নেয় ফুলেশ্বরীর কাছে। এমনকি দেহজ প্রেমের প্রসঙ্গ এলেও সে কামনা করে রঙ্গীকে—পরজন্মে, যখন তাদের একটি সন্তান হবে—কৃষ্ণবর্ণের। এই প্রেম নারী-ক্ষমতায়ন প্রশ্নে একটি বড় ডিসকোর্স তো বটেই। চৌধুরীর লড়াই পালা বা ‘সখী রঙ্গমালা’ উপন্যাসের তুলনায় নাটক ‘সখী রঙ্গমালা’—দুই সখীর বাখান—রাই-এর সখী রঙ্গমালা’র সাথে প্রেমের কল্পনা। বেশ্যার ঘরে জমিদারের ‘প্রথম পক্ষে’র পইখ রানি হয়ে ওঠা বা তার আগের গল্প এই নাটক। প্রকৃতিবিযুক্ত মানুষের তথাকথিত সভ্যতা আজ যে সংকটের সামনে, ফুলেশ্বরীর গল্প তার বিপরীতে ভিন্ন এক পথের ইঙ্গিত যেন দেয় আমাদের।
নির্দেশকের কথা
‘সখী রঙ্গমালা’ উপন্যাস যখন পড়ি, রঙ্গমালার প্রতি কেমন যেন দরদ কাজ করে; তার প্রেমে হাবুডুবু খাই। কিন্তু তার প্রতি প্রেম এত গুরুত্বপূর্ণ কেন? জমিদার রাজচন্দ্র চৌধুরী কামুক, প্রেমিক; দেহজ সুখ যার জীবনের একমাত্র আরাধ্য। বহু নারী তার কাম্য। রঙ্গমালা রাজচন্দ্রের ভালোবাসার মানুষ, রঙ-ঢঙের মানুষ। রাজচন্দ্র চৌধুরীর স্ত্রী ফুলেশ্বরী রাই; অথচ ফুলেশ্বরী রাই-এর সখী রঙ্গমালা! এটা কীভাবে সম্ভব? যে রাস্তা দিয়ে ফুলেশ্বরী হেঁটে যায়, তার ধূলিকণার সাথে কথা বলে সে। মানুষের সাথে তার সংযোগ কম; প্রকৃতির সাথে তার মূল যোগাযোগ। সামাজিক মানুষের প্রচলিত যে যোগাযোগ, তা থেকে একেবারে আলাদা রকমের একটা যোগাযোগ তার সবার সাথে। ভালোবাসার এক ব্যাপক শক্তি তার মধ্যে কাজ করে। এই ভালোবাসা একেবারেই দেনা-পাওনার বাইরে—নিখাদ ভালোবাসতে জানে ফুলেশ্বরী রাই। মানুষের এই শক্তিটা আমার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ। ফুলেশ্বরী রঙ্গমালাকেও ভালোবাসে, তার ভাবনায় আন্দোলিত হয়, জেগে ওঠে, তার মতো হতে চায়; রঙ্গমালার প্রতি তার অন্যরকমের অপার্থিব প্রেম। রঙ্গমালাকে যখন হত্যা করা হয়, ফুলেশ্বরী রাই-ই একমাত্র প্রতিবাদ করে—প্রতিবাদের ভাষাকে তুলে দেয় পাখিদের গলায়, তাদের গানে। এমন প্রেমের নিদর্শন বিরল। তার প্রেমের গভীরতা ব্যাপক, ভাব সহজিয়া। এইরকম একটা চরিত্র নির্মাণ করার লোভ হয়; তাই ‘সখী রঙ্গমালা’ বেছে নিয়েছে বটতলা। উপন্যাসের বিশালত্ব মঞ্চায়ন আমাকে কাবু করে দেয়। আমার আগের প্রযোজনা ‘ক্রাচের কর্নেল’ নির্মাণকালেও বারবার মনে হয়েছে উপন্যাসের এই বিশালত্বের কতটুকুই-বা ধারণ করতে পেরেছি? ‘সখী রঙ্গমালা’-র নির্মাণে প্রথম কৃতজ্ঞতা শাহীন আখতারের প্রতি—আমাদের যোগ্য ভেবে এর মঞ্চায়ন করার অনুমতি দিয়েছেন। কৃতজ্ঞতা সামিনা লুৎফা নিত্রা ও সৌম্য সরকারের কাছে, যাঁরা উপন্যাসের বিশাল ক্যানভাসকে নাট্যরূপ দিয়ে আমার সামনে অন্যভাবে তুলে ধরেছেন। আর ভালোবাসা বটতলা-র সবার প্রতি—এই যজ্ঞে উৎসাহ নিয়ে শামিল হবার জন্য।
নেপথ্যে
উপন্যাস: শাহীন আখতার
নাট্যরূপ: সামিনা লুৎফা নিত্রা ও সৌম্য সরকার
নির্দেশনা: মোহাম্মদ আলী হায়দার
সহকারী নির্দেশক: কাজী রোকসানা রুমা ও সৌম্য সরকার
সংলাপ রূপান্তর: নাজিফা তাসনিম খানম তিশা
প্রযোজনা ব্যবস্থাপক: মাহবুব মাসুম; সহকারী: আশরাফুল অশ্রু, নাজিফা তাসনিম খানম তিশা
মঞ্চ পরিকল্পনা: মোহাম্মদ আলী হায়দার
মঞ্চ নির্মাণ: আবু সুফিয়ান
দ্রব্য সামগ্রী পরিকল্পনা: আবু সুফিয়ান;
সহযোগী: ম. সাঈদ ও এম. এইচ. শরিফ অংক
আলোক পরিকল্পনা ও প্রক্ষেপণ: সাইফ মন্ডল
সঙ্গীত পরিকল্পনা: লোচন পলাশ
সুর: লোচন পলাশ, চন্দ্রাবতী ইভা, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম
গানের কথা: চৌধুরীর লড়াই, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, সৌম্য সরকার, সামিনা লুৎফা
নিত্রা কোরিওগ্রাফি: সুইটি দাস চৌধুরী, মোহাম্মদ আলী হায়দার ও সামিনা লুৎফা নিত্রা
পোশাক পরিকল্পনা: আফ্রিনা বুলবুল; সহযোগী: জায়েদ বিন আশরাফ হিম
পোস্টার: চারু পিন্টু
ভিডিও ও প্রচারপত্র নির্মাণ: মাহবুব মাসুম, গাজী নাফি, সৌম্য সরকার ও শাহনেয়াজ ইফতি
পৃষ্ঠপোষকতা: নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়, মঙ্গলদীপ ফাউন্ডেশন
কৃতজ্ঞতা আলী যাকের-নতুনের উৎসব উদযাপন কমিটি, শাহীন আখতার, ঢাকা স্কুল অফ ইকোনোমিক্স (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), লালমাটিয়া হাউজিং সোসাইটি স্কুল এন্ড কলেজ, উর্মি নুসরাত, ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ও শিরীন হক।
Advertisement
Event venue
পরীক্ষণ থিয়েটার হল, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী, Dhaka, Bangladesh
Tickets